تكرار (তাকরার) ও إعادة (ইআদাহ) শব্দের অর্থের পার্থক্য
تكرار ও إعادة শব্দদ্বয়ের অর্থ সাধারণভাবে বারংবারতা, পৌনঃপুনিকতা, পুনরুক্তি, পুনরাবৃত্তি বা পুনরায় করণ মনে হলেও এগুলোর মধ্যে সূক্ষ্ম ভাষাগত পার্থক্য রয়েছে।
![]() |
| تكرار ও إعادة এর মধ্যে পার্থক্য |
বিস্তারিত বিশ্লেষণ:
১. التكرار (তাকরার): এই শব্দটি কোনো বিষয়কে একবার বা একাধিকবার পুনরায় করা—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তবে যখন কেউ বলে «করররা কাজা» (كرر كذا), তখন বিষয়টি অস্পষ্ট (مبهم) থেকে যায়; বোঝা যায় না সে এটি দুইবার করেছে নাকি বহুবার। কারণ এই শব্দের মূল দাবিই হলো বারবার করা। একারণেই «كرره مرات» বলা অশুদ্ধ, কারণ শব্দের ভেতরেই 'مرات' বা 'কয়েকবার' অর্থটি বিদ্যমান।
২. الإعادة (ইআদাহ): এই শব্দটি কেবল একবার পুনরায় করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন «আআদা ফুলানুন কাজা» (أعاد فلان كذا) বললে বোঝায় সে কাজটি কেবল একবার পুনরায় করেছে। এ কারণে ভাষাগতভাবে «أعاده مرات» (সেটি কয়েকবার পুনরায় করেছে) বলা শুদ্ধ।
ফকিহগণের নির্ধারিত মূলনীতি
«الأمر لا يقتضي التكرار والنهي يقتضي التكرار»
অর্থ: আমর (আদেশ) পুনরাবৃত্তি দাবি করে না, কিন্তু নাহি (নিষেধ) পুনরাবৃত্তি দাবি করে।
আইনবিদগণ এখানে ইআদাহ শব্দ ব্যবহার না করে তাকরার ব্যবহার করেছেন। এর কারণ হলো:
- নিষেধ (নাহি): এর উদ্দেশ্য হলো কোনো কাজ থেকে স্থায়ীভাবে বিরত থাকা। এতে কোনো কষ্ট নেই, তাই এটি সর্বদা বা বারবার পালন করা আবশ্যক।
- আদেশ (আমর): আদেশ যদি বারবার পালন করা বাধ্যতামূলক হতো, তবে মানুষের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হতো। ফলে একবার পালন করাই আদেশের মূল দাবি।
দলিল: হজ্ব সম্পর্কে হযরত সুরাকা (রা.) প্রশ্ন করেছিলেন— ألعامنا هذا ام للأبد ؟(এটি কি কেবল এই বছরের জন্য, নাকি চিরকালের জন্য?)। নবী (সা.) উত্তর দিয়েছিলেন— «للأبد» (চিরকালের জন্য)। তিনি আরও বলেন, আমি যদি نعم -‘হ্যাঁ’ বলতাম তবে তা প্রতি বছর করা ওয়াজিব হয়ে যেত। এটি প্রমাণ করে যে, আদেশের মূল কাঠামো নিজে থেকে পুনরাবৃত্তি (তাকরার) দাবি করে না।
মোদ্দা কথা
কোনো নিষিদ্ধ বিষয় থেকে কেউ যদি বিরত থাকার পর পুনরায় তা করতে শুরু করে, তবে তাকে ‘বিরত থাকা ব্যক্তি’ বলা হয় না (কারণ নিষেধ তকরার দাবি করে)। কিন্তু কাউকে কোনো কাজের আদেশ দেওয়া হলে সে যদি তা অন্তত একবার সম্পন্ন করে, তবে তাকে আর ‘আদেশ অমান্যকারী’ বলা যায় না।

0 মন্তব্যসমূহ